ইউটিউব কমিউনিটি গাইডলাইন স্ট্রাইকের বিশাল পরিবর্তন!(Feb’19)

ইউটিউব কমিউনিটি গাইডলাইন স্ট্রাইকের বিশাল পরিবর্তন!

ইউটিউবকে সবার ব্যবহারের জন্য উপযোগী করে তুলতে ইউটিউব তাদের পলিসিতে নিত্যনতুন পরিবর্তন করে চলেছে তো চলেছেই। আর এরই ধারাবাহিকতাই এবার  চলে এলো ইউটিউবের আরেকটি পরিবর্তন – ইউটিউব কমিউনিটি গাইডলাইন স্ট্রাইকের পরিবর্তন। একটি ইউটিউব চ্যানেলে মূলত ২ রকমের স্ট্রাইক থাকে। একটা হলো কপিরাইট স্ট্রাইক আর অন্যটি হলো কমিউনিটি গাইডলাইন স্ট্রাইক।

আপনি যদি পারমিশন ছাড়াই অন্য কারো কন্টেন্ট(ভিডিও, ভিডিওতে ব্যবহৃত ছবি, থাম্বনেলে ব্যবহৃত ছবি) ব্যবহার করেন তাহলে শাস্তি হিসেবে কন্টেন্টের মালিক ইউটিউবের সাথে যোগাযোগ করে আপনাকে যে স্ট্রাইক দেয়া হয় সেটা হলো কপিরাইট স্ট্রাইট। অন্যদিকে আপনি যদি ইউটিউবের নিজস্ব নিয়ম না মেনে কন্টেন্ট তৈরী করেন তাহলে ইউটিউব আপনাকে শাস্তি হিসেবে যে স্ট্রাইক দেয় সেটাকে বলে কমিউনিটি গাইডলাইন স্ট্রাইক। আর ইউটিউব তাদের কমিউনিটি গাইডলাইন স্ট্রাইকেরই কিছু পরিবর্তন এনেছে যেটা কার্যকর হবে আগামী ২৫ শে ফেব্রুয়ারি থেকে

ওয়ার্নিং অপশন

ইউটিউব কমিউনিটি গাইডলাইন স্ট্রাইকে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন যেটা করা হয়েছে সেটা হলো ওয়ার্নিং অপশন। আমরা জানি ইউটিউব কমিউনিটি গাইডলাইন স্ট্রাইক মূলত ৩টি। কিন্তু ২৫ শে ফেব্রুয়ারির পর আপনি দেখতে পাবেন ৩টি স্ট্রাইকের সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন আরেকটি অপশন যেটাকে ওয়ানিং অপশন বলা হয়েছে। এখন হয়ত অনেকেই মনে করবেন যে মোটকথা ৩টি থেকে ৪টি স্ট্রাইক করা হয়েছে এইত। কিন্তু এটা সম্পূর্ন ভুল। স্ট্রাইক আগের মতোই সেই ৩টি থাকবে। তাহলে ওয়ার্নিং অপশনের কাজ কি? সোজা বাংলায় বললে, আপনি ইউটিউবের কমিউনিটি গাইডলাইনের নিয়ম ভঙ্গ করেছেন এবং পরবর্তীতে আবার নিয়ম ভাঙ্গলে আপনাকে যে কঠোর শাস্তি পেতে হবে সেটা সম্পর্কে সতর্ক করে দেওয়া।

কিন্তু আগে যেটা হতো, আপনি যদি প্রথমবারই ভুলবশত ইউটিউবের নিয়ম ভঙ্গ করতেন তাহলে আপনাকে শাস্তি হিসেবে একটা কমিউনিটি স্ট্রাইক দিয়ে দেওয়া হতো যার ফলে আপনার নিয়ম ভঙ্গকারী ভিডিওটি ডিলিট করে দেওয়া হতো এবং ৯০ দিনের জন্য আপনি লাইভ স্ট্রিম করতে পারতেন না। কিন্তু ইউটিউবের মনে হয় বুদ্ধি বেড়েছে, তারা বুজতে পেরেছে যে প্রথম প্রথম সবাই ভুল করে। তাই ২৫ শে ফেব্রুয়ারির পর যারা ইউটিউব কমিউনিটি গাইডলাইনের নিয়ম ভঙ্গ করবে তাদেরকে সরাসরি স্ট্রাইক না দিয়ে শুধুমাত্র ওয়ার্নিং দেওয়া হবে যেটাতে শাস্তিস্বরুপ শুধু নিয়ম ভঙ্গকারী ভিডিওটি ডিলিট করে দেওয়া হবে। 

তবে এটা ভেবে নিয়েন না যে এটা স্ট্রাইকের মতো ৯০ দিন পর চলে যাবে এবং এরপর আবার নিয়ম ভঙ্গ করলে শুধুমাত্র ওয়ার্নি পাবো। কারন ২৫ শে ফেব্রুয়ারির পর আপনি প্রথমবার যখন নিয়ম ভঙ্গ করবেন তখনই শুধু একবার এই ওয়ার্নিটা পাবেন যেটা কখনোই আর চলে যাবে না। মানে আপনার চ্যানেলটি লাইফে একবারি কেবল ওয়ার্নিং অপশনের সুবিধা পাবে। এরপর নিয়ম ভঙ্গ করলে ডাইরেক্ট স্ট্রাইক, লও ঠেলা।

স্ট্রাকের শাস্তি আরও বাড়ল

আগে যখন স্ট্রাইক দেওয়া হতো তখন শাস্তি ছিল নিম্নরূপ-

  • প্রথম স্ট্রাইকে নিয়ম ভঙ্গকারী ভিডিও ডিলিট, ৯০ দিনের জন্য লাইভ স্ট্রিম বন্ধ ।
  • স্ট্রাইক থাকাকালীন ৯০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় স্ট্রাইক পেলে নিয়ম ভঙ্গকারী ভিডিও ডিলিট, দুই সপ্তাহ ভিডিও আপলোড বন্ধ।
  • স্ট্রাইক থাকাকালীন ৯০ দিনের মধ্যে তৃতীয় স্টাইক পেলে চ্যানেল টারমিনেট করে দেওয়া।

কিন্তু এখন শাস্তিগুলো আরো কঠোর করা হয়েছে –

  • প্রথম স্ট্রাইকে নিয়ম ভঙ্গকারী ভিডিও ডিলিট, এক সপ্তাহ ভিডিও আপলোড,অন্যান্য চ্যানেল অ্যাকটিভিটি আর ৯০ দিনের জন্য লাইভ স্ট্রিম বন্ধ।
  • স্ট্রাইক থাকাকালীন ৯০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় স্ট্রাইক পেলে নিয়ম ভঙ্গকারী ভিডিও ডিলিট, দুই সপ্তাহ ভিডিও আপলোড এবং অন্যান্য চ্যানেল অ্যাকটিভিটি বন্ধ।
  • স্ট্রাইক থাকাকালীন ৯০ দিনের মধ্যে তৃতীয় স্টাইক পেলে চ্যানেল টারমিনেট করে দেওয়া।

স্ট্রাইকের পরিসর বাড়ল

আগে কমিউনিটি স্ট্রাইক শুধুমাত্র ভিডিও আর কাস্টম থাম্বনেলের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হতো। কিন্তু এখন থেকে কমিউনিটি গাইডলাইন স্ট্রাইক শুধুমাত্র এই দুটো বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বর্তমানে চালু হওয়া ইউটিউবের স্টোরিতে আপনি যে ভিডিও বা ছবি দিবেন, চ্যানেলের কমিউনিটি ট্যাবে যে ভিডিও বা ছবি দিবেন, ভিডিওর ডেসক্রিপশনে যে ওয়েবসাইটের লিংক ব্যবহার করবেন এমনকি কমেন্ট সেকশন; যদি ইউটিউব কমিউনিটি গাইডলাইন নিয়ম ভঙ্গ করে তাহলেও আপনি স্ট্রাইক পাবেন। তাই কমিউনিটি গাইউলাইন সম্পর্কে সবকিছু এখনই ভালভাবে জেনে নিন।

নতুন স্ট্রাইকের পরিবর্তন সম্পর্কে ইউটিউবের অফিশিয়াল লিংকঃ http://bit.ly/2EqjMjJ


ইউটিউবের এরকম আরো নতুন নতুন সংবাদ জানতে টেকজাহাজের সাথেই থাকবেন আর আর্টিকেলটি এখনি আপনার পরিচিত ইউটিউবার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে দিন। হ্যাপি ইউটিউবিং 🙂