কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের যে বিষয়গুলো অবশ্যই জানা উচিত

কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের যে বিষয়গুলো অবশ্যই জানা উচিত

কম্পিউটার ব্যবহার করতে গিয়ে মাঝে মাঝেই আমরা কিছু ছোট-বড় সমস্যায় পড়ি। তখন হয়ত এলাকার পরিচিত কোনো কম্পিউটার এক্সপার্ট বা কম্পিউটার সার্ভিস সেন্টারে আমাদের দৌড়াতে হয়। কিন্তু প্রবলেমটি সলভ হওয়ার পর মাঝে মাঝেই মনে হয়, “এই ছোট্ট একটা সমস্যার জন্য এত টেনশনে ছিলাম, এত দৌড়াদৌড়ি করেছি। ইশ্শ! সমস্যার সমাধানটা যদি আগে জানতাম”।

এমন অনুভুতি যেন আর না হয় সেজন্য আর্টিকেলটিতে আমার মতে “সকল কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের যে বিষয়গুলো অবশ্যই জানা উচিত” সেগুলো আলোচনা করব।(এখানে শুধু তথ্য দেওয়া হয়েছে তাই কাজগুলো কিভাবে করতে হয় সেগুলো এখানে আলোচনা করা হয়নি)

কম্পিউটার বেসিক টার্ম

কম্পিউটারের কিছু বেসিক টার্ম রয়েছে। যারা কেবল নতুন কম্পিউটার ব্যবহার করা শুরু করছে তাদের অবশ্যই এই বেসিক বিষয়গুলো জানতে হবে।

  • কিভাবে নতুন ফোল্ডার, নতুন টেক্স ফাইল তৈরী করতে হয়।
  • ফোল্ডার বা যেকোন ফাইলকে কিভাবে হাইড করে রাখতে হয়।
  • কিভাবে অনেকগুলো ফাইল একবারে সিলেক্ট করতে হয়।
  • একটা ফাইলকে কম্পিউটারের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় কিভাবে নেওয়া যায়।
  • কিভাবে কম্পিউটারকে রিফ্রেস করতে হয়।এটা নিয়ে আমার আরেকটি আর্টিকেল রয়েছে সম্পূর্ন কম্পিউটার এক ক্লিকেই রিফ্রেস করুন (তবে রিফ্রেস করলে যে কম্পিউটার ফাস্ট কাজ করে এই ভুল বুজা যাবে না)
  • পেনড্রাইভ,ডিভিডি অথবা এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক কিভাবে কম্পিউটারে সাথে সংযোগ করতে হয় ।
  • মনিটর, কি-বোর্ড, মাউস, স্পিকার, হেডফোন কিভাবে সংযোগ করতে হয়।
  • পেনড্রাইভ, ডিভিডি অথবা এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক এবং কম্পিউটারের মধ্যে কিভাবে যেকোন ফাইল আদান-প্রদান করতে হয়।
  • কম্পিউটারের লোকাল ডিস্ক ‘সি’ এবং অন্যান্য লোকাল ডিস্কগুলোর মধ্যে কি পার্থক্য সেগুলো জানা।
  • কিভাবে একটা সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হয়।
  • প্রয়োজনীয় কিছু সফটওয়্যার যেমন ভিডিও, অডিও প্লে করার জন্য কোন সফটওয়্যার, ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য কোন সফটওয়্যার, লেখালেখির কাজের জন্য কোন সফটওয়্যার ইত্যাদি সম্পর্কে জানা।
  • সফটওয়্যারের বিভিন্ন এক্সটেনশন সম্পর্কে জানা যেমনঃ ‘.exe’ , ‘.rar’ ইত্যাদি।
  • একটা ফাইলকে কিভাবে খুব দ্রুত খুঁজে বের করতে হয় সেটা জানা।
  • কম্পিউটারকে অন/অফ এবং রিস্টার্ট করার অপশন ‘সিপিইউ’ এবং অপারেটিং সিস্টেমের কোথায় রয়েছে সেটা জানা।
  • কিভাবে কম্পিউটারের ঘড়ি এবং তারিখ ঠিক করতে হয় সেটা জানা।

কি-বোর্ড শর্টকাট

কি-বোর্ড শর্টকাট কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের খুবই প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। কম্পিউটারের কি-বোর্ড ব্যবহার করে আমরা যেকোন কাজ যত দ্রুত করতে পারি সেটা মাউস ব্যবহার করে সম্ভব নয়। যেমনঃ ctrl+a চেপে আমরা একবারে অনেক ফাইল খুব দ্রুত সিলেক্ট করতে পারি । এরকম আরও অনেক প্রয়োজনীয় কিছু কমন কি-বোর্ড শর্টকাট রয়েছে যেগুলো অবশ্যই জানতে হবে।

ভাইরাস/ম্যালওয়্যার দূর করা

কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের যে বিষয়গুলো অবশ্যই জানা উচিত

কম্পিউটারে অনেক সময় বিভিন্ন সোর্স থেকে বিভিন্ন টাইপের ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার চলে আসে। এগুলো আমাদের কম্পিউটারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন ডেটাকে নষ্ট করে দেয়। তাই কম্পিউটারকে এগুলো থেকে কিভাবে সুরক্ষিত রাখা যায় বা এগুলো যদি কম্পিউটারে কোনোভাবে চলেই আসে তাহলে এগুলোকে কিভাবে ধ্বংস করা যায় সেগুলো জানতে হবে।

অপ্রয়োজনীয় ফাইল ক্লিন করা

আমরা যখন কম্পিউটারে কোন কাজ করি, সেটা হতে পারে একটা ফোল্ডার ওপেন করা বা অন্যকিছু ,তখন কম্পিউটার সেই কাজের তথ্য সংগ্রহ করার জন্য কিছু টেম্পোরারি ফাইল তৈরী করে। তাই কাজটা শেষ হবার পর এই টেম্পোরারি ফাইলগুলো ডিলিট করা প্রয়োজন কারন কাজটি শেষ হয়ে গেলেও টেম্পোরারি ফাইলগুলো কম্পিউটারের র‍্যামে সবসময় লোড হয়ে থাকে। ফলে কম্পিউটার পারফরমেন্সে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। তাই এগুলো কিভাবে ক্লিন করতে হয় সেটা জানতে হবে। তাছাড়া অনেকসময় কিছু অপ্রয়োজনীয় ফাইল/ডেটা আমাদের কম্পিউটারে থাকে। এগুলোও আমাদের ক্লিন করে রাখতে হয়।

মাইক্রোসফট অফিস

কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের যে বিষয়গুলো অবশ্যই জানা উচিত
Image credit: Microsoft office

মাইক্রোসফট অফিস এমন একটা সফটওয়্যার প্যাক যেখানে আমরা বিভিন্ন অফিশিয়াল কাজ, লেখালেখি, প্রেজেনটেশনের স্লাইড, নোট ইত্যাদি কাজ করার প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার পেয়ে যাই। তবে এটা যে শুধু অফিশিয়াল কাজেই ব্যবহৃত হয় তা কিন্তু না। আপনি একজন ছাত্র/ছাত্রী বা একজন ব্যবসায়ী বা একজন সাধারন মানুষ হয়ে থাকলেও মাইক্রােসফট অফিস আপনাকে কোন না কোন কাজে ব্যবহার করতেই হবে। তাই মাইক্রোসফট অফিস সফটওয়্যার প্যাকটির সবগুলো সফটওয়্যার না শিখলেও মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এক্সেল এবং মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট অবশ্যই শিখবেন।

প্রয়োজনীয় ডেটা ব্যাকঅ্যাপ রাখা

অনেক সময় কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ক্রাশ করে বা কোনো ভাইরাস/ম্যালওয়্যার আসলে আমাদের প্রয়োজনীয় ডেটাগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য প্রয়োজনীয় ডেটাগুলোকে আগে থেকেই ব্যাকঅ্যাপ রাখতে হয়। তাই কিভাবে ব্যাকঅ্যাপ রাখতে হয় সেটাও আমাদের জানতে হবে।

ইন্টারনেট

শুধু কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহারকারী নয়, আজকের দিনে প্রত্যেকটি মানুষের ইন্টারনেট সম্পর্কে জানা উচিত। ইন্টারনেটের যে বিষয়গুলো না জানলেই নয় –

  • কিভবে সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে ইন্টারনেটে কোন তথ্য খুঁজে বের করতে হয়।
  • ইন্টারনেটের কোন তথ্য বিশ্বাস করা উচিত আর কোন তথ্য বিশ্বাস করা উচিত নয় সেটা জানা।
  • ইন্টারনেটে নিজের প্রাইভেসি কিভাবে সুরক্ষিত করা যায় সেটা জানা।
  • কোন ধরনের ওয়েবসাইট গেলে ভাইরাস/ম্যালওয়্যার আসার সম্ভবনা রয়েছে সেটা জানা।
  • কোনো ওয়েবসাইটে নিজের তথ্য দেবার আগে ওয়েবসাইটি কতটা নিরাপদ সেটা জানা।
  • কোনো ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট করে থাকলে সেখানের দেওয়া পাসওয়ার্ডটি যে কারো পক্ষে অনুমানযোগ্য কিনা সেটা জানা ইত্যাদি।

নেটওয়ার্ক সেটাপ করা

আমরা কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে থাকি। বাসায় অনেকগুলো কম্পিউটার থাকলে বা অফিসে সবগুলো কম্পিউটারকে একে অপরের সাথে সংযোগ রাখার জন্য আমরা হোমনেটওয়ার্ক ব্যবহার করে থাকি। আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য ব্রডব্যান্ড/ মডেম/ ওয়াই-ফাই রাউটার ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু আমরা অনেকেই এগুলো কিভাবে সেটাপ করতে হয় সেটা জানি না।

কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের যে বিষয়গুলো অবশ্যই জানা উচিত

যার ফলে এগুলো সেটাপ করার জন্য আমাদের টাকা খরচ করতে হয়। কিন্তু এগুলো বেশি কঠিন কোনো কাজ না। দু-একবার নিজে চেষ্টা করলেই এগুলো পারা যায়। তাই পরিচিত কেউ না থাকলে প্রথমবার একটু টাকা খরচ হলেও পরবর্তীতে যেন টাকা খরচ করতে না হয় সেজন্য নিজ দায়িত্বে এগুলো শিখে নিবেন।

আরও পড়ুনঃ

কম্পিউটার – এর অপারেটিং সিস্টেম সেটাপ দেওয়া

আমার এখনো মনে আছে, আমার এক বন্ধু কম্পিউটারে উইন্ডোজ সেটাপ দেওয়াকে অনেক বড় একটা কাজ মনে করতো। ওর মতে, সেটাপ দেবার সময় কিছু ভুল হলে কম্পিউটার নষ্ট হয়ে যাবে। তাই আমার বন্ধু সবসময় কম্পিউটার সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে টাকা খরচ করে কম্পিউটারে উইন্ডোজ সেটাপ দিতো। কিন্তু কম্পিউটার সেটাপ দেওয়া আসলে বড় কোনো কাজ না। দু-একবার দেখলেই যেকেউ এটা করতে পারবে।

কিন্তু ঐযে, যদি ভুল হয় তাহলেতো কম্পিউটার নষ্ট হয়ে যাবে; আর নষ্ট হলে বাবা ঘর থেকে আজীবনের জন্য বের করে দিবে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এদিকে এই সামান্য কাজটা করার জন্য অনেক টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে সেদিকে কোনো মাথাব্যথাই নেই।(অবশ্য আমি পরবর্তীতে আমার ফ্রেন্ডকে কম্পিউটার সেটাপ দেওয়া শিখিয়েছি। এখন সে নিজে নিজেই সেটাপ দিতে পারে😊) আমরা সিডি অথবা বুটেবল পেনড্রাইভ ব্যবহার করে কম্পিউটারকে সেটাপ দিতে পারি। পেনড্রাইভকে বুটেবল করার জন্য আমার একটি আর্টিকেল বুটেবল পেনড্রাইভ তৈরী করবেন কিভাবে? রয়েছে।

কম্পিউটার হার্ডডিস্ক পারটিশন করা

আমরা কম্পিউটারে যে বিভিন্ন লোকাল ডিস্ক দেখতে পাই সেটা সম্ভব হয়েছে হার্ডডিস্ক পারটিশন করার কারনে। হার্ডডিস্ক মূলত একটা নির্দিষ্ট জিবির হয়ে থাকে। আমরা ডেটাকে অর্গানাইজ করার জন্য নির্দিষ্ট জিবির হার্ডডিস্ককে ভাগ ভাগ করে কিছু নির্দিষ্ট জিবির লোকাল ডিস্ক তৈরী করি আর এটাকেই হার্ডডিস্ক পারটিশন করা বলে। হার্ডডিস্ককে আমরা অপারেটিং সিস্টেম সেটাপ দেবার সময় এবং সেটাপ দেবার পরেও পারটিশন করতে পারি।

কম্পিউটার পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখা

আমাদের কম্পিউটারটিকে এক থেকে দুই মাস পর পর পরিষ্কার করা উচিত। এখানে আমি মনিটর,কি-বোর্ড বা স্পিকার পরিষ্কারের কথা বলছি না(এগুলোতো প্রত্যেকদিনই পরিষ্কার করা উচিত) , সিপিইউ খুলে সেটার ভিতরের হার্ডওয়্যার পরিস্কার করার কথা বলছি; কেননা সেখানের হার্ডওয়্যারগুলোই আমাদের কম্পিউটার পরিচালনা করে, তাই এগুলো পরিষ্কার না করলে কম্পিউটার স্লো কাজ করবে এটা নিশ্চিত ।

isometric it people concept 1284 23188

তবে আপনি যদি সিপিইউ কখনো খুলে না থাকেন তাহলে সিপিইউ খুলে যেমন বিশাল একটা ময়লার স্তুপ দেখতে পাবেন তেমনি সিপিইউ-এর ভিতরের হার্ডওয়্যার দেখে আপনার মাথা ভো ভো করা শুরু করবে। তাই পরিষ্কার করার আগে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারগুলো কিভাবে একে অপরের সাথে কানেক্ট থাকে সেটার একটু ধারনা আগে থেকেই নিয়ে নিবেন। সবথেকে ভাল হয়, কম্পিউটার কেনার সময় দোকানদারকে হার্ডওয়্যারগুলো কানেক্ট করতে না দিয়ে দোকানদারের সাহায্য নিয়ে নিজে নিজে কানেক্ট করা।


আমরা এখন আর্টিকেলটির একদম শেষ প্রান্তে। আর্টিকেলটি সম্পর্কে আপনাদের কোনো মতামত থাকলে সেটা অবশ্যই কমেন্ট করে আমাদের জানিয়ে দিন। আমাদের সাপোর্ট করার জন্য আর্টিকেলটি শেয়ার করে দিন এবং সোশ্যাল প্লাটফর্মে ফলো করুন। টেকজাহাজের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Featured Image Credit: Photo by mentatdgt from Pexels

Image Credit: Freepik.com