কিভাবে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলকে দ্রুত চার্জ করবেন?

মোবাইলকে দ্রুত চার্জ করার কিছু গুরুত্বপূর্ন টিপস

অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ব্যবহার করতে গিয়ে মোবাইলের ব্যাটারী ধীরগতিতে চার্জ হওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়েনি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া দুঃস্কর । মোবাইলকে ফুল চার্জ করতে করতেই আমাদের দিন চলে যায়। সেজন্য মোবাইল কোম্পানিগুলো মোবাইলের ব্যাটারীকে দ্রুত চার্জ করার জন্য “ফার্স্ট চার্জিং” নামক এক প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছে যার ফলে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যেই মোবাইল ফুল চার্জ হয়ে যায়।

কিন্তু “ফার্স্ট চার্জিং” প্রযুক্তি সকল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে ব্যবহার করা হয়না। তাই যাদের মোবাইলে “ফার্স্ট চার্জিং” প্রযুুক্তি নেই তারা কি মোবাইলকে দ্রুত চার্জ করাতে পারবে না? উত্তর হচ্ছে, হ্যা পারবে। “ফার্স্ট চার্জিং” প্রযুক্তি ছাড়াই আমরা কিছু ট্রিকসের মাধ্যমে আমাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলটিকে দ্রুত চার্জ করতে পারি।  তাই দেরী না করে চলুন জেনে নিই অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলকে দ্রুত চার্জ করার কিছু গুরুত্বপূর্ন টিপসগুলো।

মোবাইলকে দ্রুত চার্জ করার পদ্ধতি

অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলকে দ্রুত চার্জ করানোর জন্য আমাদের সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যারের কিছু বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রথমেই সফটওয়্যারের বিষয়গুলো দেখা যাক-

সফটওয়্যারভিত্তিক বিষয়ঃ

Airplane Mode ব্যবহার করে চার্জ দেওয়া

অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল দ্রুত চার্জ করানোর জন্য airplane mode ব্যবহার করতে হবে। আমাদের মোবাইলে যে ৩জি বা ৪জি নেটওয়ার্ক বিদ্যমান সেগুলো অন্য নেটওয়ার্ক যেমন ওয়াই-ফাই বা ব্লটুথ থেকেও অনেক ব্যাটারী পাওয়ার কনজুম করে। তাই airplane mode ব্যবহার করলে সকল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায় আর মোবাইল ২০গুন দ্রুত চার্জ হয়।

মোবাইল বন্ধ করে চার্জ দেওয়া

আমাদের আসলে সবারই উচিত মোবাইল বন্ধ করে চার্জ দেওয়া। কারন তখন মোবাইলের ব্যাটারী কোনো রকম কাজে এনার্জি খরচ করে না, যার ফলে মোবাইল ৪০গুন দ্রুত চার্জ হয়।

কোনো ব্যাটারী সেভার অ্যাপ ব্যবহার না করা

ব্যাটারী সেভার অ্যাপ ব্যবহার করলে যদিও অনেকাংশে মোবাইল দ্রুত চার্জ হয় তবুও এগুলো ব্যবহার না করাই উচিত। কারন এই অ্যাপগুলো বিভিন্ন অ্যাপকে কিল করে রাখে। তাই পরে যখন আপনি সেই অ্যাপগুলো ওপেন করেন তখন ব্যাটারী অনেক এনার্জি খরচ করে, যার ফলে দিন শেষে দেখ যায়, যে লাউ সেই কদু।

তবে মোবাইলে ডিফল্টভাবে ব্যাটারী সেভার সেটিংস থাকলে সেটা ব্যবহার করুন। কারন এটা অ্যাপগুলোকে কিল না করে অ্যাপগুলোর ব্যাটারীর এনার্জি ব্যবহার করার মাত্রা কমিয়ে দেয়।

Doze অপশন

আমাদের মোবাইলটি যদি অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন ৬.০ বা এর উপরের হয় তবে সেটিংসে একটি গোপন অপশন আছে যেটার নাম “Doze”। আপনি মোবাইলের সেটিংসে গিয়ে “doze” লিখে সার্চ করুন। এবার ছবি দেখে ধাপগুলো অনুসরন করুন। মোবাইল দ্রুত চার্জ হবে।

কিভাবে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলকে দ্রুত চার্জ করবেন?

হার্ডওয়্যারভিত্তিক বিষয়ঃ

নিজস্ব চার্জার ব্যবহার করা

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলটিকে দ্রুত চার্জ করানোর জন্য প্রথমেই আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে আমাদের মোবাইলটি যেন সবসময় মোবাইলের সাথে পাওয়া চার্জার দিয়েই চার্জ করাই। কারন, মোবাইলের সাথে পাওয়া চার্জার কেবলমাত্র আমাদের মোবাইলটির জন্যই তৈরী করা হয়েছে, যার ফলে মোবাইলটির ব্যাটারী যতটুকু পাওয়ার নিতে পারে ঠিক ততটুকুই পাওয়ার  ব্যাটারী পায়। এতে করে যেমন মোবাইল দ্রুত চার্জ হবে ঠিক তেমন মোবাইলের ব্যাটারীর আয়ুও ঠিক থাকবে।

আপনি হয়ত খেয়াল করবেন, অন্য কোনো চার্জার দিয়ে মোবাইল চার্জ করার সময় যদি মোবাইল ব্যবহার করেন, তখন মোবাইলটি রেসপন্স করে না, হ্যাং হয়ে যায়। কিন্তু মোবাইলটির নিজস্ব চার্জার দিয়ে চার্জ করানোর সময় মোবাইল ব্যবহার করলে এমন কোন সমস্যা হয় না। কারন, অন্য কোন চার্জার যেহেতুে আমাদের মোবাইলটির উপযোগী করে তৈরী করা হয়নি তাই মোবাইলটির ব্যাটারী হয় বেশি পাওয়ার বা কম পাওয়ার পায় যার ফলে মোবাইলের ব্যাটারী ধীরগতিতে চার্জ হওয়াসহ ব্যাটারীর আয়ু অনেকগুন কমে যায়।

ব্রান্ডের চার্জার ব্যবহার করা

অনেক সময় আমাদের চার্জারটি বিভিন্ন কারনে নষ্ট হয়ে যায়। তখন আমরা অনেকেই বাজার থেকে সস্তা দামে লো কোয়ালিটির বিভিন্ন চার্জার কিনে ব্যবহার করি। এগুলো যেমন মোবাইলের ব্যাটারী ধীরগতিতে চার্জ হওয়ার জন্য দায়ী ঠিক তেমন মোবাইলের ব্যাটারীর আয়ু কমাতেও সাহায্য করে ।

এজন্য মোবাইলের অফিশিয়াল চার্জারটি কিনে ব্যবহার করুন। জানি, একটু খরচ হবে কিন্তু মোবাইলের ব্যাটারীতো ভাল থাকবে। যদি অফিশিয়াল চার্জার কেনা সম্ভব না হয় তাহলে যেসেই সস্তা চার্জার না কিনে ভাল কোন ব্রান্ডের চার্জার কিনে ফেলুন। তবে কেনার আগে অবশ্যই দেখে নিবেন, চার্জারটি আপনার মোবাইলের জন্য উপযোগী কিনা? আপনার অরিজিনাল চার্জারের গায়ে দেখবেন,একটা নির্দিষ্ট ভোল্টেজ এবং অ্যাম্পিয়ারের ইনপুট এবং আউটপুট লিখে দেওয়া আছে। সবসময় এটার সাথে মিল রেখেই নতুন কোনো চার্জার কিনলে আপনি সবথেকে ভাল ফলাফল পাবেন। তবে আবারো মনে করিয়ে দিচ্ছি, কোন লো কোয়ালিটির চার্জার ব্যবহার করবেন না।

মোটা ও ছোট  দৈর্ঘ্যের  ইএসবি ক্যাবল ব্যবহার করা

শুধু চার্জার নয়, চার্জারের সাথে যে ইএসবি ক্যাবল থাকে সেটাও চার্জ ধীরগতিতে হওয়ার জন্য দায়ী। আপনার চার্জারটি ঠিকমতো পাওয়ার সাপ্লাই দিলেও আপনি যদি চিকন আর লম্বা ক্যাবল ব্যবহার করেন চার্জ করার জন্য তবে বলে রাখি, এরকম ক্যাবলের রোধ বেশি থাকায় মোবাইলের ব্যাটারী ঠিকমতো পাওয়ার পাবে না যার ফলে চার্জ দ্রুত না হয়ে ধীরগতিতে হবে। তাই মোটা ও ছোট দৈর্ঘ্যের ক্যাবল চার্জারের জন্য ব্যবহার করুন।

এছাড়া আমরা অনেকেই চার্জারের ক্যাবল হিসেবে বিভিন্ন রংয়ের আলো প্রদান করে এমন ক্যাবল ব্যবহার করি। কিন্তু এগুলো শুধু শুধু  শক্তি ব্যবহার করে চার্জারের আউটপুট পাওয়ার আরও কমিয়ে দেয়, তাই চার্জিং এর জন্য এমন ক্যাবলকে না বলুন।

চার্জ করার সময় কভার ব্যবহার না করা

চার্জ করার সময় কখনোই কভার ব্যবহার করবেন না। মোবাইলে কভার থাকলে চার্জ করার সময় মোবাইল অনেক গরম হয়ে যায় যেটা মোবাইলের ব্যাটারীর চার্জ ধীরগতিতে এবং আয়ু কমাতে খুবই সহায়ক।এছাড়া মোবাইল চার্জ করার সময় মোবাইল যেন কাপড়,বই বা কিছুর ভিতরে না থাকে সেটাও লক্ষ্য করতে হবে।

বায়ু চলাচল পরিবেশে মোবাইল চার্জ করা

মোবাইল চার্জ করার সময় মোবাইল অনেকটা গরম হয়। তাই মোবাইলটিকে এমন কিছুর উপর রেখে চার্জ করুন যেন মোবাইলের উপর আর নিচে বায়ু চলাচল করতে পারে। এতে মোবাইল দ্রুত চার্জ হবে।

মোবাইল গরম হয় বলে আবার ফ্রিজে রেখে মোবাইল চার্জে দিয়েন না। অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা কোনোটাই ভাল না। তাই মোবাইলকে সবসময় ঘরের তাপমাত্রায় চার্জ করুন।

অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলকে দ্রুত চার্জ করার কিছু গুরুত্বপূর্ন টিপস

উপরের টিপসগুলো অ্যাপ্লাই করে “ফার্স্ট চার্জিং” প্রযুক্তির মতো আমরা আমাদের মোবাইলকে দ্রুত চার্জ করাতে পারব। তাহলে সবশেষে উপরের ধাপগুলো আবার একটু দেখে নেওয়া যাক –

  • মোবাইলের নিজস্ব চার্জার ব্যবহার করতে হবে।
  • যেসেই চার্জার ব্যবহার না করে ব্রান্ডের চার্জার ব্যবহার করতে হবে।
  • চার্জারের জন্য চিকন আর লম্বা ক্যাবল ব্যবহার না করে মোটা এবং ছোট ক্যাবল ব্যবহার করতে হবে।
  • চার্জ করার সময় মোবাইলে কোনো কভার থাকা যাবে না এবং মোবাইল কোনো কিছুর ভিতরে রাখা যাবে না।
  • চার্জ করার সময় মোবাইলের উপর ও নিচের পৃষ্ঠে যেন বায়ু চলাচল করতে পারে সেটা খেয়াল করতে হবে।
  • Airplane mode ব্যবহার করে মোবাইল চার্জে দিতে হবে।মোবাইল বন্ধ করে চার্জে দিতে হবে।
  • ব্যাটারী সেভার অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে না।গোপন সেটিংস Doze ব্যবহার করতে হবে।

আমরা এখন আর্টিকেলটির একদম শেষ প্রান্তে। আর্টিকেলটি সম্পর্কে আপনাদের কোনো মতামত থাকলে সেটা অবশ্যই কমেন্ট করে আমাদের জানিয়ে দিন। আমাদের সাপোর্ট করার জন্য আর্টিকেলটি শেয়ার করে দিন এবং সোশ্যাল প্লাটফর্মে ফলো করুন। টেকজাহাজের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Featured Image Credit: pixabay.com